বন্দরের মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ ।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর টু বস্তল হাইওয়ে ও আড়াইহাজার রোডের মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে সন্ধ্যা হলেই সিএনজি ও অটোরিকশাচালকরা সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে শুরু করেন। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার আশপাশে ছোট-বড় কয়েক শতাধিক,গার্মেন্টস,হাসপাতাল,ব্যাংক, শিল্পকারখানা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাছাড়া স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ শ্রমিক, কর্মচারী,চাকুরীজীবি, শিক্ষার্থীসহ বন্দর ও সোনারগাঁ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন মদনপুর বাসস্ট্যান্ড ব্যবহার করে চলাচল করেন। এখানে লোকাল বাস চলাচল না থাকায় সন্ধ্যা হলেই যাত্রীদের জিম্মি করে সিন্ডিকেটে বাড়তি ভাড়া আদায় করেন সিএনজি ও অটো রিকশা চালকরা।
আল আমীন নামে এক গার্মেন্টস শ্রমিক জানান, সন্ধ্যার পর গাড়ির সংকট দেখিয়ে প্রতিদিন
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়। অনেককেই বাধ্য হয়ে বাড়ি ফেরার তাগিদে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যেতে হয়। আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মাস শেষে সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হয়।
জেরিন আক্তার ও ফারজানা নামে দুই গার্মেন্টস কর্মী বলেন,মদনপুর থেকে নয়াপুর পর্যন্ত ভাড়া ছিল ১০ টাকা।এখন সে ভাড়া বাড়িয়ে সিন্ডিকেট করে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত রাখছেন।যার কারনে বেতনের অর্ধেক ভাড়াতেই চলে যায়। বিষয়টি দেখার মতো কেউ না থাকায় তারা ইচ্ছামতো ভাড়া নিচ্ছেন। কর্তৃপক্ষকে এসব বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাসস্ট্যান্ডের দুপাশেই দিনের বেলায় নির্ধারিত আগের ভাড়া ১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা নেওয়া হলেও সন্ধ্যা হলেই বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের কাছ থেকে আরো বাড়তি ভাড়া দাবি করেন সিএনজি ও অটোরিকশাচালকরা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যাত্রী বলেন,সন্ধ্যা হলেই কুমিল্লা বাড়ী মদনপুরের জামাই সিন্ডিকেট করে সকল চালককে হুমকি দিয়ে বেশী ভাড়া নিতে বলেন।তখন সকল সিএনজি ও অটোরিকশা চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া ছাড়া গাড়ি ছাড়েন না।ঐ জামাই সকল সিএনজি ও অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে সাপ্তাহিক চাঁদা নেন ও লাইন চালান।ভুক্তভোগী যাত্রীরা দ্রুত কর্তৃপক্ষের কাছে এর প্রতিকার চান।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার দায়িত্বে থাকা সেকেন্ড অফিসার শফিউল আলম ডেইলী বঙ্গ নিউজকে জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। কে বা কারা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে, তদন্ত করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
