নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চুরি ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধের ঘোষনা দিয়েছেন জৈনপুর সমাজকল্যাণ ক্রীড়া সংঘ।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের জৈনপুর এলাকায় অনুষ্ঠিত চুরি ডাকাতি, ছিনতাই মাদক জুয়াসহ অসামাজিক কার্যকলাপসহ অপরাধ রোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় এ ঘোষনা দেন।
জৈনপুর সমাজকল্যাণ ক্রীড়া সংঘ সভাপতি জহিরুল ইসলাম জহিরের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক মাহবুবুল ইসলাম সুমনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ থানার ওসি মো. মহিবুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, সাংবাদিক মিজানুর রহমান মামুন, জৈনপুর সমাজকল্যাণ ক্রীড়া সংঘ সাধারণ সম্পাদক ফখরুদ্দিন আহম্মেদ খোকন, ইউপি সদস্য মো. নুরুজ্জামান নুরু, সমাজ সেবক শফিউল আলম বাচ্চু, শহীদ সরকার, মোতালেব মিয়া প্রমুখ। এসময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলেচনা সভায় বক্তারা বলেন, পিরোজপুর ইউনিয়নে বর্তমান চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে।নাগেরগাঁও গ্রামে প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় প্রায় বাড়ীতে চুরি করছে।গ্রামের ঘর দুয়ার ফাঁকা পেলেই সর্বষ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।এ জন্য গ্রামের মানুষ খুবই অতিষ্ঠ। নাগেরগাঁও গ্রামের ছেলে সন্তানহীন বিধবা অসহায় তাছলিমা আক্তার জানান উনার কোন ছেলে সন্তান নেই, স্বামী ও মারা গেছেন, তাই প্রায় সময়ই তিন মেয়েদের বাড়ীতে বেড়াতে যেতে হয়, সে সুযোগে তার বাড়ীর মোটর পাম্প,ডেস্কি,গ্যাসের চুলা,সকল আসবাব পত্র ধাপে ধাপে কয়েকবারে চুরি করে নিয়ে গেছেন।যেহেতু ধাপে ধাপে কয়েকবারে চুরি করেছেন,এ চোর এলাকার স্থানীয় চোর।অসহায় বিধবা তাছলিমা আক্তার জানান এলাকার প্রভাবশালীর কাছে জানালেও এর কোন বিচার পাননি।এলাকাবাসী জানান নাগেরগাঁও গ্রামে প্রায় এখন চুরি হচ্ছে-কারো সাইকেল,বাড়ীর আসবাব পত্র,এমনকি জমির ফসলও চুরি করছে।নাগেরগাঁও গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেব এ বিষয়ে সমাধান করার জন্য বক্তব্য পেশ করেন ও প্রস্তাব দেন, কিন্তু কোন সুরুহা হয়নি কারন যারা চুরি করেন তারা স্থানীয় ও স্থানীয় প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় বাস করেন।তাই গ্রামবাসী কোন বিচার করতে সাহস পান না।গ্রামবাসী এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ও আইনের লোকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। পাশাপাশি এ ইউনিয়নের পাশে ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কে সম্প্রতি বিভিন্ন পরিবহনে ডাকাতির ঘটনা আশংকাজনকহারে বেড়ে গেছে। এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সকলকে সোচ্চার হতে হবে। এলাকার একটি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে ডাকাত চুরির পাহারা দিয়ে ডাকাতি সহ সকল প্রকার অপরাধ দমন করা সম্ভব।
