বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৬ , ২০২৬
১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থিতা অবৈধ বলে অভিযোগ করেছেন একই আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত ও সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা শাহজাহান শিবলী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদী এলাকায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে শাহজাহান শিবলী বলেন, জামায়াতের প্রার্থী দাবি করা ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত ও বিব্রত করছেন। তিনি নিজেকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে দাবি করে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন, যা সম্পূর্ণ অসৎ ও অনৈতিক রাজনৈতিক আচরণ।

তিনি আরও বলেন, ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া প্রথমে কেন্দ্র থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দেশনা পাওয়ার কথা বললেও পরে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে উপস্থিত হতে পারেননি বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। অথচ এখন আবার নিজেকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দাবি করে মাঠে নেমে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।
শাহজাহান শিবলী বলেন, ১১ দলীয় জোট লিখিতভাবে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে এবং এর বৈধ কাগজপত্র আমার কাছে রয়েছে।

বিপরীতে ড. ইকবাল হোসেন কোনো লিখিত অনুমোদন ছাড়াই আমাদের সমর্থকদের ব্ল্যাকমেইল করছেন এবং নিজেকে জোটের প্রার্থী হিসেবে জাহির করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি কখনোই ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নন। তিনি একজন অবৈধ ও বিদ্রোহী প্রার্থী।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ড. ইকবাল হোসেন একাধিকবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে আবার ভিন্ন পরিচয়ে মাঠে নেমেছেন।
এর মাধ্যমে তিনি ১১ দলীয় জোটকে জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন।
শাহজাহান শিবলী আরও বলেন, সম্প্রতি চিটাগাংরোড এলাকায় ১১ দলীয় জোটের এক সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ড. ইকবাল হোসেনকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। এটি জামায়াতের একতরফা ও দলীয় স্বেচ্ছাচারিতা। এর সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের কোনো সম্পর্ক নেই। ড. ইকবাল হোসেনের কাছে কোনো লিখিত প্রমাণপত্র নেই, অথচ আমার কাছে বৈধ ও লিখিত মনোনয়নপত্র রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। ১১ দলীয় জোটের একমাত্র বৈধ ও মনোনীত প্রার্থী আমি। আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোটের রিকশা প্রতীককে বিজয়ী করতে একসঙ্গে কাজ করি।
এ বিষয়ে ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, কেন্দ্র থেকে আমাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দেশনা দেওয়া হলে আমি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রত্যাহার করি। তবে পরে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীরের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাকে পুনরায় প্রার্থিতা বহাল রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং মাঠে প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। দলীয় ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে আমি বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছি এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবেই প্রচারণা চালাচ্ছি।

Share.
Exit mobile version